একটি ভুল বিশ্বাস ভাঙার যাত্রা — যা লক্ষ মানুষের জীবন বদলে দিতে চায়
আমরা ছোটবেলা থেকে পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে অনেক ভুল ধারণা ও বিশ্বাস নিয়ে বড় হই। এই ভুল বিশ্বাসগুলোর কারণে আমরা আমাদের জীবনের অনেক বড় সুযোগ এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলো থেকে বঞ্চিত হই।
The Next Journey-এর লক্ষ্য হলো আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১০ লক্ষ মানুষের এই ভুল বিশ্বাসগুলো ভেঙে সঠিক ধারণা পৌঁছে দেওয়া। আমরা বিজ্ঞান এবং পবিত্র কুরআনের আলোকে মানুষকে এমনভাবে গাইড করতে চাই, যাতে তারা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে প্রকৃত উন্নতি করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক চিন্তাভাবনা ও বিশ্বাসের মাধ্যমেই জীবনের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব।
জন্মিয়েছিলাম এক গরিব পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই পরিবারে ঝগড়াঝাঁটি দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। আমাদের পরিবারে এমন একটি দিনও যেত না, যেদিন অশান্তি বা ঝগড়া হতো না। এগুলো দেখতে দেখতেই হয়তো আমার মানসিক বিকাশে সমস্যা হয়েছিল, যার কারণে একটা সময় পর্যন্ত আমার বয়স অনুযায়ী বুদ্ধি বিকশিত হয়নি। পরিবার, আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুদের কাছ থেকে সবসময় বুলিং আর অপমানের শিকার হয়েছি — শুনতে হয়েছে যে আমি কথা বলতে পারি না। পরিবার থেকে হাজার বার শুনতে হয়েছে আমি বড় হয়ে কিছু করতে পারব না। শিক্ষকরাও সামিল ছিলেন এই প্রতিযোগিতায়। যার কারণে বড় হওয়ার সাথে সাথে আমি আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগতাম, আত্মবিশ্বাসের সাথে কোনো কথা বলতে পারতাম না এবং সবসময় নিজেকে নিয়ে সন্দেহে (Self-doubt) ভুগতাম।
সর্বপ্রথম কবে 'আত্মউন্নয়ন' (Self-development) শব্দটার সাথে পরিচিত হই মনে নেই, কিন্তু যেখানে আগে আমার বিশ্বাস ছিল যে — আমি বোধহয় এই পৃথিবীতে ভুল করে জন্মেছি এবং এই পৃথিবীটা আমার জন্য নয়। ভেবেছিলাম আমি সারা জীবন এমনই থাকব। কিন্তু কোনো না কোনোভাবে আমার আত্মউন্নয়নের যাত্রা শুরু হয়। আমি অনেক তথ্য জানতে শুরু করি এবং ধীরে ধীরে নিজের মনের ভুল বিশ্বাসগুলো ভাঙতে থাকে। আমি 'ফিক্সড মাইন্ডসেট' থেকে বেরিয়ে 'গ্রোথ মাইন্ডসেট'-এ আসতে শুরু করি।
শুরু হলো নিজেকে গড়ার যাত্রা। কিন্তু সমস্যা ছিল — আমি জানতাম আমাকে দিয়ে হবে, কিন্তু যাত্রাটা কীভাবে শুরু করব তা বুঝতে পারছিলাম না। যেকোনো কিছু শুরু করতে গেলেই বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলাম। এদিকে গরিব পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় সংসারের হাল ধরার জন্য পরিবারের চাপ বাড়তে থাকে। আমার স্বপ্ন ছিল বড়, কিন্তু আমার পরিবার চাইত আমি সাধারণ কিছু একটা করে ইনকাম করি। তাদের মতে শারীরিক শ্রম ছাড়া অন্য কিছু কাজ নয়। তাদের ধারণা ছিল — আমাদের মতো গরিবদের জন্য বড় স্বপ্ন দেখা পাপ, গরিবরা সবসময় গরিবই থাকে এবং পৈতৃক সম্পত্তি ছাড়া কেউ ধনী হতে পারে না।
আমার চিন্তাভাবনার সাথে পরিবারের মিল না হওয়ায় প্রায়ই ঝগড়া হতো। কয়েকবার বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। পারিবারিক কলহ আর আর্থিক সমস্যার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। নিরুপায় হয়ে কয়েক মাস গার্মেন্টসে কাজ করেছি, কিন্তু কোনোভাবেই মন বসাতে পারিনি। কারণ মহাবিশ্ব আমাকে বারবার সংকেত দিচ্ছিল যে আমি এর চেয়ে ভালো জীবন পাওয়ার যোগ্য। তাই গার্মেন্টসের কাজ ছেড়ে দিলাম।
হঠাৎ ভিডিও এডিটিংয়ের প্রতি আগ্রহ জাগে। একটি নামী আইটি ইনস্টিটিউটের নাম শুনি যেখানে কোর্স করতে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা লাগবে। তখন সেই সামর্থ্য আমার ছিল না। ভাগ্যক্রমে একটি স্কিন কেয়ার কোম্পানিতে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে ১০,০০০ টাকা বেতনের চাকরি পাই। বেতনের বড় অংশ বাসায় দেওয়ার পর তিল তিল করে টাকা জমিয়ে সেই ৩৮ হাজার টাকার মোশন গ্রাফিক্স কোর্সটি করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটি ছিল এক প্রকার প্রতারণা বা 'স্ক্যাম'। কোর্সের মান ৩৮ টাকার মতোও ছিল না।
হাল না ছেড়ে আমি ইন্টারনেটে নিজে নিজে ঘাটাঘাটি শুরু করি এবং বুঝতে পারি, ইন্টারনেটে অনেক কম খরচে এর চেয়ে হাজার গুণ ভালো শেখা সম্ভব। কঠোর পরিশ্রম করে আমি ভিডিও এডিটিং ও মোশন গ্রাফিক্সের ওপর দক্ষতা অর্জন করি। দীর্ঘদিন এই সেক্টরে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন আত্মউন্নয়নমূলক কোর্স ও সেমিনারে অংশ নেই। আমার আয়ের বড় একটা অংশ আমি শেখার পেছনে এবং নিজের মস্তিষ্ককে আপডেট করার কাজে খরচ করতাম। আলহামদুলিল্লাহ, ততদিনে আমার জীবন থেকে 'গরিব' শব্দটা মুছে গিয়েছিল।
আমি আমার আত্মউন্নয়ন যাত্রায় যা শিখেছি এবং শিখছি, সেই শিক্ষাগুলো আমি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। যারা সত্যিই জীবনে পরিবর্তন আনতে চায় এবং সাধারণ জীবন থেকে বেরিয়ে স্বপ্নের জীবনে পৌঁছাতে চায়, তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। আর সেই উপলব্ধি থেকেই জন্ম নিয়েছে — 'The Next Journey'।
হাজারো শিক্ষার্থীর সাথে যোগ দাও এবং জীবন পরিবর্তন করো